দেশে হাম ও উপসর্গে মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে ৬৮০, নতুন আক্রান্তের সংখ্যাও ঊর্ধ্বমুখী

Must read

দেশে সংক্রামক ব্যাধি হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল আরও দীর্ঘ হলো। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৮০ জনে। তবে এই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিত হওয়া হামের কারণে নতুন কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।

আজ রোববার (২১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিন ও প্রেস বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই হিসাব গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে আজ রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের।

আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে ল্যাব টেস্টে ‘নিশ্চিত মৃত্যু’ হয়েছে ৯৩ জনের। অন্যদিকে, হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরও ৫৮৭ জন। অর্থাৎ মোট ৬৮০ জন মৃত্যুর শিকার হয়েছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় যে ৩ জন মারা গেছে, তারা সবাই ঢাকা বিভাগের এবং তারা হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল।

এদিকে সংক্রমণের সংখ্যাও আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরও ৬২ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর ফলে দেশে এ পর্যন্ত মোট নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ১১ জনে।

একই সময়ে নতুন করে আরও ১ হাজার ১ জন শিশুর শরীরে হামের লক্ষণ বা উপসর্গ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব মতে, এ পর্যন্ত মোট সন্দেহভাজন আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯২ হাজার ৭৯০ জনে।

হাম কী এবং কেন এই উদ্বেগ? চিকিৎসকদের মতে, হাম (Measles) একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি সাধারণত আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসে ছড়ায়। শিশুরাই এই রোগে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন না পেলে হামের জটিলতা থেকে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, মস্তিষ্কের প্রদাহ (এনসেফালাইটিস) এবং এমনকি শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

হামের প্রধান লক্ষণসমূহ:

  • তীব্র জ্বর এবং শরীরে লালচে দানা বা র‍্যাশ (Rash) ওঠা।

  • সর্দি, কাশি এবং চোখ লাল হয়ে যাওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া।

  • মুখের ভেতরের অংশে ছোট ছোট সাদাটে দাগ (কোপ্লিক স্পট)।

প্রতিরোধ ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধের একমাত্র এবং সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো সময়মতো ‘এমআর’ (Measles-Rubella) টিকা নেওয়া। সরকারি টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী, শিশুদের ৯ মাস বয়সে প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ হামের টিকা দেওয়া বাধ্যতামূলক।

যদি কোনো শিশুর মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা যায়, তবে তাকে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। একই সাথে আক্রান্ত শিশুকে অন্য শিশুদের থেকে আলাদা রাখা এবং পর্যাপ্ত তরল খাবার ও ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নজরদারি বাড়িয়েছে এবং উপদ্রুত এলাকাগুলোতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার উদ্যোগ নিয়েছে।

- Advertisement -spot_img

More articles

- Advertisement -spot_img

Latest article